মশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়। বিস্তারিত জানুন
আপনি কি অতিরিক্ত মশার কারণে দুশ্চিন্ত। মশার কয়েল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেলটিতে আমরা মশার কয়েল সম্পর্কে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যেগুলো আপনার জানা আবশ্যক।
এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন মশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়, মশার কয়েল কি ক্ষতিকর, মশার কয়েল তৈরি উপাদান কি কি, মশার কয়েলের দাম কত, গন্ধহীন মশার কয়েল এবং সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল কোনটি। আপনি যদি উপরুক্ত সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃমশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়
ভূমিকা
বর্তমান সময়ের বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ গুলোর মধ্যে হচ্ছে মশা। জীবনে কখনো মশার কামড় খাইনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বর্তমান বাজারে মশা থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ধরনের কয়েল বিভিন্ন কোম্পানি তৈরি করে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন মশার কয়েল আপনার জন্য কতটা ক্ষতিকর। কিংবা মশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়।
সকল বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে আজকের এই আর্টিকেলটিতে। সম্প্রীতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে গত বছরের তুলনায় এ বছরে কিউলেক্স মশার সংখ্যা প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে মশা থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের কয়েল উৎপাদন বাড়িয়েছে।
বর্তমানে বাজারে যে সকল কয়েলগুলো মশা তাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে সেগুলো মজা মেরে ফেলতে সক্ষম। মশার কয়েলে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণে এটি ভিশন ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষ করে মানব শরীরের জন্য। যার কারণে মানুষজন বেশি সচেতন হয়েছে মশার কয়েল সম্পর্কে।
আরো পড়ুনঃশরীরের কোন ভিটামিন চুল গজাতে সাহায্য করে
এখন আপনি যদি ভুল বছর তো মশার কয়েল খেয়ে ফেলেন তাহলে আপনার কি কোন ক্ষতি হবে কিংবা আপনি কি মারা যেতে পারেন সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে আজকের এই আর্টিকেলটিতে। তাই সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
মশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়
যখন আপনি মশার কয়েল কিনা আনেন তখন আপনার মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে। প্রশ্নটা কি এরকম যে মশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়। আপনি হয়তো ভুলবো শুধু মশার কয়েল খেয়ে ফেলেছেন যার কারণে আপনাকে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ কিংবা ভয় দেখে থাকতে পারে।
কিন্তু আপনার যদি সঠিক ধারণা থেকে থাকে তাহলে আশা করি আপনি মশার কয়েল ভুলবশত খেয়ে নিলে তার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনার অনেকেই ক্যাফেইন এর নাম শুনে থাকবেন এটি সাধারণত চা কিংবা কফি থেকে পাওয়া যায়। ক্যাফেইন আপনার শরীরের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর মশার কয়েল খেলে ঠিক ততটুকুই ক্ষতির শিকার আপনি হতে পারেন।
যদি আপনি ভুল বুঝতো মশার কয়েল খেয়ে ফেলেন তাহলে মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা যদি শতকরা হিসাব করেন তাহলে ২% এবং বাকি ৯৮% সম্ভাবনা রয়েছে এটা আপনার খুব একটা ক্ষতি না হওয়ার। মশার কয়েলে সাধারণত যে সকল রাসায়নিক উপাদান গুলো ব্যবহার করা হয় তা মশা মারার জন্য কিংবা মজা তাড়ানোর জন্য কাজ করে।
মশার কয়েলে এমন কোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য থাকে না যার কারণে মানুষ মারা যেতে পারে। তবে আপনি যদি ভুল বুঝতো মশার কয়েল খেয়ে ফেলেন তাহলে আপনার পেটে অস্বস্তি বোধ হতে পারে কিংবা ফুড পয়জনিং এর সমস্যা হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি মশার কয়েল খাওয়ার পর বমি করে ফেলেন তাহলে মশার কয়েলে যাবতীয় রাসায়নিক উপাদান গুলো আপনার শরীর থেকে বের হয়ে আসবে।
যদি আপনি মশার কয়েল ভুলবশত খেয়ে ফেলেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে সেটি হচ্ছে মশার কয়েল ভুল বশত খাওয়ার পর অবশ্যই আপনি পানি পান করবেন না। কেননা মশার কয়েল খাওয়ার পর যদি আপনি পানি পান করেন এতে মশার কয়েলের মধ্যে থাকা বিভিন্ন টক্সিক পদার্থগুলো আপনার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যদি আপনি ভুলবশত মশার কয়েল খেয়ে ফেলেন তাহলে বমি করলে সেটা ঠিক হয়ে যায় আর যদি বমি না হয় সেক্ষেত্রে আপনি বমি করানোর জন্য বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায় সে ওষুধ খেতে পারেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন যদি আপনার অতিরিক্ত সমস্যা হয় তাহলে। বাকি থাকলো মশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়। জি না।
মশার কয়েল খেলে মানুষ মারা যায় না তবে শারীরিক কিছু ক্ষতি হতে পারে। যেমন পেটে ব্যথা কিংবা পেটে অস্বস্তির মত সমস্যা। তাই যদি আপনার পেটে ব্যথা কিন্তু অস্বস্তিক সমস্যা দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
মশার কয়েল কি ক্ষতিকর
বর্তমান সময়ের মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে মশার কয়েল একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে গ্রামে ও শহরে মশার উপদ্রব বেশি হওয়ার কারণে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে অনুমোদনহীন ও ক্ষতিকারক মশার কয়েল বাজারে বিক্রি করছেন। যেগুলো আমরা নিয়মিত ব্যবহার করে আসছি।
দীর্ঘদিন ধরে মশার কয়েল ব্যবহারের ফলে আমাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বাজারে যে সকল মশার কয়েল রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই বিএসটিআই অনুমোদনহীন যেগুলো আমাদের মানবদেহের শ্বাসকষ্ট সহ কিডনি লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দীর্ঘ দিন মশার কোয়েলের ধোঁয়া ব্যবহার করলে আপনার ক্যান্সার ও শ্বাসনালীর প্রদাহসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
এমনকি আপনার গর্বের সন্তান বিকলাঙ্গ হতে পারে। এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা ভুয়া পিএইচপি নাম্বার ও বিএসটিআই এর লোগো ব্যবহার করে বাজারে নিম্নমানের মশার কয়েল বিক্রি বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মশার কয়েল ব্যবহারে যে সকল ক্ষতিকর দিকগুলো দেখা দেয় তা হলো।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা
২০ টিরো বেশি মশার কয়েলের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর গবেষণায় দেখা গেছে মশার কয়েল থেকে যে সকল ধোয়া উৎপন্ন হয় তা ১০০ টি সিগারেটের ধোয়ার সমান। আপনি যদি মশা তাড়ানোর জন্য মশার কয়েল জ্বালান তাহলে এর ধোঁয়া আপনার নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমনকি দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্টের সমস্যা।এছাড়াও দীর্ঘদিন ব্যবহারে আপনার নাক জ্বালা,গলা ব্যাথা,কাশির মত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে।
বিশেষ করে যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে কিংবা এজমা ও ঠান্ডার কারণে হাঁপানির সমস্যা বৃদ্ধি পায় এসব লোকজন মশার কয়েল এর ভুয়া থেকে দূরে থাকুন। এতে করে আপনার ফুসফুসের উপর প্রভাব পড়বে এবং প্রাথমিকভাবে কাশির সমস্যা দেখা দিল পরবর্তী সময়ে সেটি বড় ধরনের রোগের কারণ হতে পারে। মশার কয়েলের মধ্যে থাকা কারসিনোজিনস উপাদান উপাদান আমাদের ফুসফুসের অবস্থা খারাপ করে দেই।
সেনসিটিভ স্কিনে হতে পারে সমস্যা
যাদের ত্বক অতিরিক্ত সেনসিটিভ তারা মশার কয়েল থেকে দূরে থাকুন। মশার কয়েলের ধোয়ার কারণে আপনার ত্বকে এলার্জি, র্্যাশ, চুলকানি কিংবা লাল ভাব হওয়ার পাশাপাশি অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দিতে পারে। মশার কয়েলে থাকে বিভিন্ন ধরনের ভারী ধাতব বা হেভি মেটাল জাত উপকরণ যেমন অ্যালুমিনিয়াম ও ক্রোমিয়াম। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এবং ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।
মাথা ব্যথার সমস্যা
যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা কিংবা মাথা যন্ত্রণার সমস্যা রয়েছে তারা কোয়েলের ধোয়া কিংবা কয়েল থেকে দূরে থাকাই ভালো। বিশেষ করে যাদের খুব অল্পতেই মাথাব্যথা শুরু হয় তারা মশা তাড়ানোর কয়েল এর ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন এটা আপনার সমস্যা আরো তীব্র হতে পারে। স্বাভাবিক মানুষদের ক্ষেত্রে ও কোয়েলের তীব্র ধোঁয়া বা গন্ধ দম বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যদি বাড়িতে বাচ্চা কিংবা বয়স্ক মানুষ থাকে তাহলে মশার কয়েল জ্বালাবেন না। এতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
মশার কয়েল তৈরির উপাদান
বর্তমান বাজারে যে সকল মশার কয়েল রয়েছে সেগুলো অধিকাংশই রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা তৈরি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মশার কয়েলে যে সকল রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো অনুমোদিত মাত্রার থেকে অনেকটাই বেশি। যা আমাদের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।
মশার কয়েলে যে রাসায়নিক পদার্থ গুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো বাতাসের মাধ্যমে আমাদের ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসের যাবতীয় ক্ষতি সহ ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সদ্য জন্মগ্রহণ করা শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা দেয়। কেননা তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কম থাকে।
মশার কয়েলে যে সকল রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে পাইরোফ্রয়েড।এই পাইরোফ্রয়েড উপাদানটি প্রাকৃতিক যৌগ পাইরোগ্রাম থেকে উৎপন্ন হয়। যার আসল সক্রিয় উপাদান হলো কীটনাশক ডিডিটি বা পিন্ডের মতো ক্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে প্যারাফিনের মত আরপ্যান ফসফরাস যৌগ ও কার্বন।
এছাড়াও মশার কয়েলের মধ্যে রয়েছে কিছু ভার ক্ষতিকারক ধাতব উপাদান বা হেবি মেটেল যেমন অ্যালুমিনিয়াম ও ক্রোমিয়াম। এছাড়াও মশার কয়েলের মধ্যে চন্দ্রমল্লিকা ফুল থেকে প্রাপ্ত পাইরোগ্রাম দিয়ে মশা তাড়ানোর কয়েল তৈরি করা হয়। এছাড়াও বর্তমানে কাঠের গরু ও নারিকেলের মালার গুঁড়োর সঙ্গে অ্যারারুটের মাড় মিসিয়েও মশার কয়েল তৈরি করা হয়।
এই কাঠের গরু ও নারিকেলের মালার গুড়ো এতটাই ক্ষুদ্র যে যখন মজার কয়েল জ্বালানো হয় তখন এগুলো আমাদের ফুসফুসের মধ্যে প্রবেশ করে এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা গুলো সৃষ্টি করে। মশার কয়েল নেভানোর অনেকক্ষণ পর এ সকল গুড়ো বাতাসে ভাসমান করে এবং ফুসফুসে প্রবেশ করার পর ফুসফুসের বায়ুথলির কোনায় রক্ত জমে যাওয়া থেকে শুরু করে অ্যাজমা কিন্তু হাঁপানের সমস্যা সৃষ্টি করে।
মশার কয়েল দাম
বর্তমান বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশার কয়েল রয়েছে। যাদের দাম ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু মশার কয়েল কেনার আগে যদি আপনি তার সঠিক দাম জেনে নেন এবং কোনগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর সেগুলো জানতে পারেন তাহলে আপনার জন্য খুবই উপকার হবে। আর্টিকেলটির এই অংশে আমরা বর্তমান সময়ের কয়েকটি বিএসটিআই অনুমোদিত ও পিএইচপি নম্বর যুক্ত মশার কয়েলের দাম সম্পর্কে আলোচনা করব। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল।
বাওমা নো-স্মোক মশার কয়েল
বর্তমান বাজারে এই মশার কয়েলটি অন্যান্য মশার কয়েলের তুলনায় কম ক্ষতিকর এবং এর দাম অনেকটাই কম। একটি মশার কয়েলের প্যাকেটে আপনি ১০ পিচ মশার কয়েল পাবেন যার বর্তমান বাজারে দাম ১১০ টাকা। আপনি চাইলে এটি সরাসরি বাজারে গিয়েও কিনতে পারেন অথবা অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার করতে পারেন।
নিমপাতা মশার কয়েল
প্রাকৃতিক সকল উপাদান এবং নিমের গুনাগুন সমৃদ্ধ এই মশার কয়েল আপনার সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং মজা তাড়ানোর কাজে বেশ কার্যকরী। বর্তমান বাজারে এবং অনলাইনে এই মশার কয়েলটি আপনি সুলভ দামে পেয়ে যাবেন। বর্তমান বাজারে ১০ পিচের একটি বক্স কিনলে তার দাম পড়বে ৬৯০ টাকা। এই মশার কয়েলটির দাম তুলনাম মুলক একটু বেশি হলেও এটা আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
পাতাবাহার মশার কয়েল
বর্তমান বাজারে পাতাবাহার মশার কোয়েলের প্রতি বক্স এর খুচরা মূল্য ১২০ টাকা। আপনি যদি সরাসরি বাজার থেকে কিনেন তাহলে এর দাম কিছুটা বেশি পড়বে কিন্তু যদি অনলাইন থেকে এর দাম জানতে চান তাহলে মূল্য কিছুটা কম আসবে।
রকেট মশার কয়েল
বিষক্রিয়া মুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি রকেট মশার কয়েল আপনার সার্বিক সুস্থতার খেয়াল রাখার পাশাপাশি মশা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। একটি বক্সে ১০ পিচ মশার কয়েলের বর্তমান বাজারে দাম 50 টাকা। খুব সহজেই এটি আলাদা করা যায় এবং জালানো খুব সহজ। তুলনামূলকভাবে কম ধোয়া সৃষ্টি হয় এবং রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণও কম।
সিভিল ম্যাজিক মশার কয়েল
বর্তমান বাজারে সুলভ দামে বিক্রি কৃত প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি মশার কয়েল গুলোর মধ্যে আপনি চাইলে সিভিল ম্যাজিক মশার কয়েল ব্যবহার করতে পারেন। ১০ পিচের একটি বক্সের দাম বর্তমানে 70 টাকা পড়বে। যা অন্যান্য মশার কয়েলের দাম থেকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম।
আশা করি বর্তমান বাজারে যে সকল মশার কয়েল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে যেগুলো আপনার জন্য তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর সেগুলোর দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
গন্ধহীন মশার কয়েল
বর্তমান বাজারে গন্ধহীন মশার কয়েল নেই বললেই চলে। গন্ধহীন মশার কয়েল বলতে সাধারণত ইলেকট্রিক্যাল মশার কয়েল গুলোকে বোঝানো হয়ে থাকে। গন্ধহীন মশার কয়েল গুলোর নাম আসলেই ঈগল মশার কয়েলের নাম প্রথমে আসে। এই মশার কয়েলে যে গন্ধ রয়েছে সেটি সুগন্ধিযুক্ত। সুলভ দাম এবং অধিক কার্যকারিতার জন্য বর্তমান বাজারে ঈগল মশার কয়েলের জনপ্রিয়তা খুব বেশি।
শুধুমাত্র তাই নয় এতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোন উপাদান ব্যবহারিত হয়নি। এছাড়াও গন্ধহীন মশার কয়েল হিসেবে গুড নাইট কিংবা ইলেকট্রিক্যাল কয়েল গুলো ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও বাজারে আরও বিভিন্ন ধরনের গন্ধহীন মশার কয়েল পাওয়া যায় চাইলে সেগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
কিন্তু বাজারে যে সকল মশার কয়েল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে থেকে আপনাকে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং রাসায়নিক উপাদান কম ব্যবহৃত হয়েছে এমন মশার কয়েল গুলো ব্যবহার করতে হবে। এতে আপনার তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্য হানি কম হবে এবং মশা থেকেও দূরে থাকতে পারবেন। গন্ধহীন মশার কয়েল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এটা ঠিক কিন্তু এতে মশা থেকে খুব একটা পরিত্রাণ পাওয়া যায় না।
মশার কয়েলের বিষাক্ত ধরার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও বয়স্ক দের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। সে সকল বিষয়গুলো মাথায় রেখে এক্সট্রিম নামক মশার কয়েল বাজারে নিয়ে এসেছে বসুন্ধারা কর্পোরেশন। এটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং রাসায়নিক উপাদান কম থাকার কারণে স্বাস্থ্যের পুরোপুরি সুরক্ষা প্রদান করবে।
এই গন্ধহীন কয়েলিটি ব্যবহারের ফলে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মশার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এই কয়েলটি আপনাকে একটানা আধঘন্টা পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করবে এবং পরিবেশবান্ধব কম,ধোঁয়া ও এসিড মুক্ত হওয়ায় মানব শাস্ত্রের জন্য এটি খুব একটা ক্ষতির কারণ হয় না।
দশটি পিচ সহ একটি বক্স কিনলে বর্তমানে এক্সট্রিম কয়েলের দাম পড়বে ৫৫ টাকা। যা খুবই সুলভ মূল্যে বসুন্ধরা কর্পোরেশন বাজারে নিয়ে এসেছে। গন্ধহীন মশার এই কয়েলটি আপনার স্বাস্থ্যের সুরক্ষার পাশাপাশি মশার কারণে সৃষ্টি রোগ গুলো থেকে আপনাকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।
সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল কোনটি
বাজারের হাজারো রকমের কোম্পানির হাজার রকম কয়েল পাওয়া যায়। কিন্তু আপনাকে বেছে নিতে হবে সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল আপনার জন্য কোনটি হবে। আপনি যদি সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল কোনটি সেটি সঠিকভাবে না জানেন তাহলে যে কোন মশার কয়েল ব্যবহারের ফলে আপনার বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে।
তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক বর্তমান বাজারে সচরাচর যে কয়েকগুলো পাওয়া যায় এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল কোনটি। বর্তমান বাজারে যে সকল মশার কয়েলগুলো পাওয়া যায় কিংবা মশা তাড়ানোর জন্য যে সকল উপাদানগুলো রয়েছে এর মধ্যে গন্ধহীন মশার কয়েল এবং সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল এর মধ্যে রয়েছে গুড নাইট একটিভ প্লাস।
গন্ধহীন এই মশার কয়েলটি আপনাকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করবে এবং এতে তেমন কোনো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ নেই যাতে আপনার স্বাস্থ্য হানী হতে পারে। এছাড়াও আরো যে সকল মশার কয়েল রয়েছে যেমন:
১/আপনি যদি সবচেয়ে ভালো মজার কয়েলের সম্পর্কে জানতে চান বা কিনতে চান তাহলে ঈগল ম্যাক্স ওয়েল আপনার জন্য খুবই ভালো হবে। ঈগল ম্যাক্স কয়েল দ্রুত মশা তাড়াতে সাহায্য করে। এবং ঈগল ম্যাক্স কোয়েলের দাম বর্তমান বাজারে অনেকটাই কম।
২/বর্তমান বাজারে সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে মর্টিন পাওয়ার গার্ড। মশারি কোয়েল আপনাকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত মশার কামড় থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে এবং দ্রুত মশা তাড়াতে সাহায্য করবে।
৩/সেভিন বুস্টার মসকিউটো কয়েল বর্তমান বাজারে সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল গুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মধ্যে থাকা শক্তিশালী উপাদান আপনাকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত মশার হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে।
৪/বউমা কয়েল আপনাকে আট ঘন্টা পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করবে এবং এই কোয়েলের ধোয়া খুব একটা বেশি হয় না এবং কার্যক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে সবচেয়ে ভালো কোয়েল গুলোর মধ্যে এটি রাখা হয়েছে। তাই মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে চাইলে আপনি এই কয়েলটি ব্যবহার করতে পারেন।
৫/নিনজা কয়েল দ্রুত মজা তাড়াতে এবং মশার হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই মশার কোয়েলের কার্যকারিতা বা কার্যক্ষমতা অনেকটাই বেশি এবং এটি ১০ থেকে ১১ ঘন্টা পর্যন্ত আপনাকে সুরক্ষা প্রদান করবে।
৬/নাইটগার্ড মশার কয়েল ব্যবহার করেও আপনি দ্রুত মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং বর্তমান বাজারে সবচেয়ে ভালো মজার কয়েল গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
আশা করি বর্তমান বাজারে সবচেয়ে ভালো মশার কয়েল গুলো সম্পর্কে আপনি ধারণা পেয়েছেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে ব্যবহার করতে পারেন।
- এসিআই সুপার প্লাস মশার কয়েল
- ব্ল্যাক ফাইটার মশার কয়েল
- ফিনিশ মশার কয়েল
- ফিনিশ নিউ সুপার মোশার কয়েল
- স্টপ জাম্বু মশার কয়েল
- নাইট রোজ মশার কয়েল
লেখকের মন্তব্যঃমশার কয়েল খেলে কি মানুষ মারা যায়
আশা করি আপনারা উপরোক্ত সকল প্রশ্নের উত্তরগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এই আটি আটি পড়ার মাধ্যমে যদি আপনার কোন উপকার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে শেয়ার করবেন।
এই আর্টিকালি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত বা মন্তব্য থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে মশার কয়েল এর পরিবর্তে মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো। এতে মশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনি যেমন সুরক্ষিত থাকবেন তেমনি মশার কয়েলের মধ্যে থাকা কেমিক্যাল গুলো আপনার শারীরিক কোন ক্ষতি করবে না। সকলে ভালো থাকবেন।আসসালামু আলাইকুম।
ডিজিটাল ব্লগ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url