শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিলাসী গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবাংলার হুগলি জেলা দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ছিল ভুবন মোহিনী দেবী। বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এ উপন্যাসিকের ছোটবেলা কাটে দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে। শরৎচন্দ্রের বিলাসী গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ভারতী পত্রিকায়। ন্যাড়া নামের এক যুবকের নিজের জবানিতে বিবৃত হয়েছে এই গল্প। এই গল্পের কাহিনীতে শরৎচন্দ্রের প্রথম জীবনে ছায়াপথ ঘটেছে।
বিলাসী গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব মানবের চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের মহিমা যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। গল্পের সংঘটিত একের পর এক ঘটনা এবং বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে সংঘাতের মাধ্যমে কাহিনী অগ্রসর হয়। ঘটনার দ্বন্দ্ব সংঘাতের মধ্য দিয়ে কাহিনীতে গতিসঞ্চলিত হয়েছে। লেখক কোন অবস্থান থেকে কাহিনী বলেছেন সেটা অনেক সময় কাহিনী বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লেখক সর্বদর্শী অবস্থান থেকেও কাহিনী বর্ণনা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি সবগুলো চরিত্র ও ঘটনা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বর্ণনা করেন। যেমনটি দেখা যায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু উপন্যাস এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাসি পিসি গল্পে। পক্ষান্তরে গল্পটি উত্তম পুরুষের ভাসে বর্ণিত হতে পারে। এক্ষেত্রে গল্পে আমি আমাকে ইত্যাদি সর্বনাম এসে যায়।এরকম ক্ষেত্রে কখনো কখনো লেখক নিজেই কাহিনীর একটা চরিত্রের ভূমিকা নেন হয়ে ওঠেন।
বিলাসী গল্পের লেখক সেই ভূমিকা গ্রহণ করেছেন বর্তমান সংকলনের অপরিচিতা আহ্বান ও তাজমহল গল্পে উত্তম পুরুষের ভাসছে গৃহীত হয়েছে। বিলাসী গল্পের নাম চরিত্র কর্মনিপুণ বুদ্ধিমতী ও সেবাব্রতি বিলাসী। শরৎ সাহিত্যের অন্যান্য উজ্জ্বল নায়িকাদের মতই একজন। যে প্রেমের জন্য নির্দ্বিধায় বেছে নিয়েছে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ আর তার প্রেমের মহিমা ময় আলোয় ধরা পড়েছে সমাজের অনুদারতা ও রক্ষণশীলতা জীবনের নিষ্ঠুর ও অযোগ্য চেহারা।
ডিজিটাল ব্লগ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url