মাসি পিসি গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়
স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃ-মাতৃহহীন এক তরুণ্ণীর করুণ জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে মাসি পিসি গল্প। আহ্লাদী নামক ওই তরুণীর মাসি ও পিসি দুজনে বিধবা ও নিঃস্ব। তারা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিরূপ বিশ্ব থেকে আল্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে সেটাই গল্পটিতে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
অত্যাচারী স্বামী ও লালসা উন্মুক্ত জোরদার দারোগা ও গুন্ডাবাজদের আক্রমণ থেকে আল্লা দিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবন যুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। দুর্ভিক্ষের মর্মশ্রী স্মৃতি জীবিকা নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম নারী হয়ে নৌকা চালনা ও সবজির ব্যবসায় পরিচালনা প্রভৃতি এই গল্পের বৈচিত্র্যময় দিক।
নিঃসন্তান এ বিধবার আপন বলতে কেউ নেই। একদিন সকালে হাঁটতে দেরি হঠাৎ তিনি একটি মেয়েকে রাস্তায় কাঁদতে দেখেন। বৃত্তান্ত শুনে তিনি মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মেয়েটিকে মাতৃস্নে আশ্রয় দিন। স্বামী পক্ষ খবর পেয়ে তাকে নিয়ে যেতে চান কিন্তু মেয়েটি কোনভাবেই স্বামীর বাড়ি যেতে ইচ্ছুক নন। বৃদ্ধ মেয়েটিকে যেতে দেননি।
এতে তাকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। মৃত্যুর পূর্বে বৃদ্ধা মেয়েটিকে সমুদয় সম্পত্তি দান করে যান। মাসি পিসি গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতার পূর্বাশা পত্রিকায় এবং এর লেখক হচ্ছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি বিহারের সাঁওতাল পরগনায় ডুমকাই জন্ম গ্রহণ করেন।তার পৈতৃক বাড়ি ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতা ছিলেন হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতার নাম ছিলেন নিরদা সুন্দরী দেবী।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পিতৃ প্রদত্ত নাম পেয়েছিলেন প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলে তাকে ভালবেসে মানিক বলে ডাকতো। তিনি খুব অল্প বয়সে তার গল্প লেখা শুরু করেন এবং তার বিখ্যাত প্রথম গল্প অতি শীমা মিলিকে চারিদিকে খ্যাতি অর্জন করেন
ডিজিটাল ব্লগ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url