রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অপরিচিতা গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানি
অপরিচিতা গল্পের অপরিচিতা বিষনের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর বাহিনী বর্ণিত হয়েছে তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌথ প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতোপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু এই গল্পে প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথক শোনালেন তিনি। এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্র ভিক্ষা ও আচরণে সমাজে গড়ে বসাগীর্ণ যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সম্মুখীন হয়েছেন।
পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যার কল্যাণীর দেশ চেতনায় ঋণ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক। অপরিচিতা উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের কতক অনুপম ২০ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধ সংলগ্ন সময়ের সেই বাঙালি যুবক যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্ব রহিত পরিবার তন্ত্রের কারণে অসহায় পুতুল মাত্র।
তাকে দেখলে আজও মনে হয় সে যেন মায়ের কল সংলগ্ন শিশু মাত্র। তার ওই বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননা কালে সম্ভুনাথ সেনের কন্যা সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্ত। অনুপম নিজের গল্প বলতে গিয়ে ব্যঙ্গার্থে জানিয়ে দিয়েছেন এই অঘটন ঘটনের কথাটি। বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত তখন কন্যার লগ্ন ভ্রষ্ট হওয়ার লকেট কথাকে অগ্রাহ্য করে সম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবকেই সংকেত বহও করে তুলেছে।
কর্মীর ভূমিকায় বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণের মধ্য দিয়ে গল্পে শেষাংশে কল্যাণীর সূচি শুভ্র আত্মপ্রকাশ ও ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনীর ইঙ্গিতে পরিসমাপ্ত। অপরিচিতা মনস্তাপে ভেঙে পড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের স্বীকারোক্তির গল্প তার পাপাস্থলের কথা বলা। অনুপমের আত্ম বিবৃতির সূত্র ধরে গল্পের নারী কল্যাণে অসামান না হয়ে উঠেছেন। গল্পটিতে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার স্ফুরণ যেমন ঘটেছে তেমনি একই সঙ্গে পুরুষের ভাসছে নারীর প্রশান্তিও কৃতি হয়েছে।
ডিজিটাল ব্লগ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url